চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মহেশ গল্পের কাশিপুর জমিদারবাড়ি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মহেশ গল্পের কাশিপুর জমিদারবাড়ি অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে। বাড়িটির স্থাপত্য কাঠামোসহ মূল্যবান বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। সরকারীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হলে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবে এ বাড়িটি। পর্যটনবান্ধব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাড়িটিকে ঘিরে গড়ে উঠবে পর্যটন এলাকা।

জীবননগর শহর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে কেডিকে ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামে জমিদারবাড়িটি অবস্থিত। এই জমিদারবাড়িটি বিশেষভাবে পরিচিত জনপ্রিয় লেখক, ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে।

আরো পড়ুন=>> পর্তুগাল সাহিত্য সংসদের নতুন কমিটি

তিনি মামাবাড়ি বেড়াতে এসে রচনা করেন তার জনপ্রিয় ছোট গল্প ‘মহেশ’। জানা গেছে, ১৮৬১ সালে জেলার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নে কাশিপুর গ্রামে জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করা হয়। এ বাড়িতে থাকতেন জমিদার বিনয় কুমার মজুমদার। এ এলাকার বিশাল অংশ জুড়ে ছিল তার জমিদারি ও শাসন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগে এটি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার অন্তর্গত ছিল।

বর্তমান বসবাসরত বাসিন্দাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে ভারতে ১২শ’ বিঘা জমি বিনিময় করে পরিবার নিয়ে চলে যান বিনয় কুমার মজুমদার। বাড়িটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। বর্তমানে বাড়িটি অযত্ন, অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জমিদার বিনয় কুমার মজুমদার ছিলেন অত্যাচারী। তিনি প্রজাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাতেন। নিরীহ প্রজারা সব সময় আতঙ্কে থাকতেন। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে মহেশ গল্পের কাশিপুর জমিদার বাড়িটি। সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে এটি একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে।

এসএম খসরুজ্জামান জানান, আমার দাদারা চারভাই ভারতে ১২শ’ বিঘা জমি বিনিময় করে এখানে চলে আসেন। এর একটি অংশে আমরা বসবাস করি। এখানেও জমিদারদের ঘরবাড়ি ছিল। যে বাড়িটি এখনও আছে এখানেই বসবাস করতেন জমিদার বিনয় কুমার মজুমদার।

আরো পড়ুন=>> সিরাজুল ইসলাম পাবলিক পাঠক কেন্দ্র এ পাঠক মতবিনিময় সভা

তাঁর ভাগ্নে ছিল ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়। তিনি মামাবাড়ি বেড়াতে এসে প্রজাদের ওপর জুলুম-অত্যাচারের বিষয়টি জানতে পেরে মর্মাহত হন। এ নিয়ে ছোট গল্প মহেশ রচনা করেন তিনি। গল্পে শরৎচন্দ্র দরিদ্র কৃষক গফুর, পালিত গরু মহেশ ও ছোট মেয়ে আমেনার করুণ কাহিনী নিয়ে জমিদার প্রথার কলুষিত অধ্যায় তুলে ধরেন। বর্তমানে বাড়িটিতে হাবিল এবং কাবিল নামে দুই ভাই বসবাস করেন।

তারা বলেন, বাড়িতে থাকা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, তারপরও আমরা এখানে বসবাস করছি। এখানে শরৎচন্দ্র অনেক সময় কাটিয়েছেন। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, কাশিপুর গ্রামে একটি জমিদারবাড়ি আছে। দেশ ত্যাগের পর অত্যাচারী জমিদার বিনয় কুমার মজুমদারের কুলষিত জমিদার প্রথা বিলুপ্ত হয়। প্রজারা স্বাধীনভাবে জীবনধারণ করতে শুরু করেন। বাড়িটি সংরক্ষণ করে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।