চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান দিলীপ কুমার আগরওয়ালা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে গেলেন চীন সফরে, পার করছেন ব্যস্তসময়

পারস্পরিক স্বার্থে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উদার’ বিনিয়োগ ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের প্রধান খাতগুলোয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেইজিংয়ের সাংগ্রিলা সার্কেলে চীনের ওয়ার্ল্ড সামিট উইংয়ে ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা এবং বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক এক সম্মেলনে চীনা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ৪ দিনের চীন সফরে চুয়াডাঙ্গার কৃতিসন্তান এফবিসিসিআই’র পরিচালক, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাসহ ১৯৬ সদস্যের বাংলাদেশ ডেলিগেশন চীনে সরকারপ্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সোমবার (৮ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেন।

আরো পড়ুন=>> হামলার কারণ হাট-ঘাট নাকি স্বর্ণ চোরাচালান ?

সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের হাতে হাত মিলিয়ে একসাথে আমরা দুর্দান্ত কিছু অর্জন করতে পারি।’ সফরের দ্বিতীয় দিন ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের আইসিটি, পর্যটন, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং উন্নয়ন খাতের সম্ভাবনার কথা কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।” চার দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে সোমবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ থেকে ‘কৌশলগত বিস্তৃত সহযোগিতা অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার কথা বলছে সরকার। বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, বিআইডিএ, বিএসইসি এবং সিসিপিআইটি চায়না ওয়ার্ল্ড সামিট উইং, সাংগ্রিলা সার্কেল, বেইজিং-এ এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি চীনা বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি খাতে। জলবায়ু-সহনশীল স্মার্ট ফার্মিং চীনের সাথে ক্রয়-ব্যাক ব্যবস্থাসহ কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ উন্মুক্ত করে। তিনটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হচ্ছে- যেখানে চীন রিয়েল এস্টেট এবং আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। এবং আমি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ অন্বেষণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।” বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা একটি শক্তিশালী বন্ড বাজার বিকাশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। আমরা ডেরিভেটিভ পণ্য প্রবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি, যা আমাদের আর্থিক বাজারে আরও বৈচিত্র্য আনবে এবং প্রসারিত করবে।”

বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগকে ‘সর্বাত্মভাবে’ গ্রহণ করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সক্রিয়ভাবে আইসিটি সেক্টরের প্রবৃদ্ধি জোরদার করছে, স্টার্টআপগুলোকে প্রণোদনা দিচ্ছে, টেক পার্কে বিনিয়োগ করছে এবং উদ্ভাবনা ও উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করে এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে।

আরো পড়ুন=>> রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্ব মঞ্চে তাদের অবস্থান তৈরি করছে এবং আমরা আপনাদের এই আকর্ষণীয় যাত্রার শরিক হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। “আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সবুজ প্রযুক্তিতে অসংখ্য সুযোগ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।”

চীনের ভাইস মিনিস্টার অব কমার্স লি ফেই, চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং টংঝু, এইচএসবিসি চায়নার প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক ওয়াং, হুয়াওয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসিম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল ইসলাম। বাংলাদেশ ও চীনের কয়েকশ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তা এই সম্মেলনে যোগ দেন।

এছাড়া সফরকালে দুই দেশের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধনেরও ঘোষণা করার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ প্রধানমন্ত্রী ও কনসাল্টেটিভ পার্টির প্রেসিডেন্টের মধ্যেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরে তিয়েনানমেন স্কয়ারে পিপলস হিরোদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি বেইজিংয়ে বাংলাদেশ হাউসে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।

বুধবার গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। এ সময় দুই নেতার উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকসহ বেশ কিছু নথিতে সই করা হবে। পরে একই স্থানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। একই দিন বিকেলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা।

আরো পড়ুন=>> দেশের উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উল্লেখ্য, ১৯৬ সদস্যের বাংলাদেশ ডেলিগেশন চীনে সরকারপ্রধানের সফরসঙ্গী হিসাবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, এসজিপি এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মনিরা বেগম, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ আল মামুন মুর্শেদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ড. ইসমাত মাহমুদা, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. তৌহিদা নওয়াজেশ রোজী, প্রধানমন্ত্রীর উপ-সামরিক সচিব কর্নেল জি এম রাজীব আহমেদ, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মাহবুবুল আলম, এফবিসিসিআই’র পরিচালক, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাসহ অন্যরা।