মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগী

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকট

আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ভর্তি রয়েছে ৭০ জন রোগী। প্রতিদিনই হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ জন করে রোগী। এতে বেড়েই চলেছে রোগীর চাপ। দ্বিগুণ রোগী হওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। মেজে বারান্দায় চাদর ও পাটি বিছিয়ে বসে ও শুয়ে আছে রোগী ও স্বজনরা।

প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা তাদের। বিছানার পাশ দিয়ে মানুষ হেটে যাচ্ছে। পায়ের ধুলা বালি উড়ে বিছানা ও নাক মুখে যাচ্ছে। এ অবস্থায় রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

এক সপ্তাহ ঠান্ডা ধরে ভুগছিলেন দেড় বছর বয়সী আফিয়া। বাড়িতেই টুকটাক চিকিৎসা চলছিল তার। হঠাৎ অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় গতকাল সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হারদিতে নেয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান নিউমোনিয়াা হয়েছে। তবে শয্যা সংকট হওয়ায় বেডের ব্যাবস্থা না থাকাই হাসপাতালে রাখেননি তার পরিবার। বিকালে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে ।

১৯৬২ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়। ৫০ বছর পর ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল টিকে পঞ্চাশ শয্যায় উন্নত করা হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হয়নি। এতে এই হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বহি বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ প্রতিদিন রোগী দেখা হচ্ছে অন্তত ৮০০ জন। এর মধ্যে বহির্বিভাগে ২০০ জন করে রুগি দেখা হচ্ছে প্রতিদিম।

গত জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে শুরু থেকে হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ৪ শত রোগী সেবা নিয়েছে নিয়েছে। দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু বৃদ্ধসহ মোট ১৫ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ২৪ ঘন্টায় বর্হিবিভাগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১০ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৯ জন চিকিৎসা নিয়েছে এছাড়া জ্বর ঠান্ডাও কাশিতে আক্রান্ত রোগীও আছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা (আর এম ও) নাজনীন সুলতানা জানান, তাপদাহের পর বৃষ্টি হয় রোগীর চাপ বাড়ছে । চিকিৎসক সংকট থাকায় প্রত্যেকে ডাবল শিফতে সেবা দিচ্ছেন।